আমেরিকান সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী, গীতিকার, সমাজসেবী, ব্যবসায়ী ও অভিনেত্রী ডলি পার্টন আর নেই।
৮০ বছর বয়সে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। খবর দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের।
সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ডলি পার্টন শুধু সংগীতেই নয়, চলচ্চিত্র ও সমাজসেবাতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। জোলিন, আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ ও কোট অব মেনি কালার্সের মতো জনপ্রিয় গান তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তোলে। তার লেখা আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ পরে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে আরও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
ডলির মৃত্যুর খবর তার ভাতিজা ব্রায়ান সিভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রিয়জনদের ঘিরে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১২ ভাইবোনের পরিবারে জন্ম ডলি পার্টনের। দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হলেও ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে গান লেখা শুরু করেন তিনি। ১০ বছর বয়সে স্থানীয় বেতার অনুষ্ঠানে গান গাইতেন এবং ১৩ বছর বয়সে প্রথমবার ন্যাশভিলের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ওলে অপ্রিতে গান করেন।
স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে ন্যাশভিলে গিয়ে সংগীতজীবন শুরু করেন ডলি। পরে গায়ক পোর্টার ওয়াগনারের সঙ্গে জুটি বেঁধে জনপ্রিয়তা পান। তবে নিজের একক ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন ছিল তার। ওয়াগনারকে বিদায় জানানোর সময়ই লিখেছিলেন আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ গানটি।
১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে একের পর এক জনপ্রিয় গান দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতজগতের শীর্ষ তারকায় পরিণত হন। সংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও সাফল্য পান। নাইন টু ফাইভ ও স্টিল ম্যাগনোলিয়াসের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেন।
ডলি পার্টনের সাফল্যের গল্প শুধু গান ও অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। সমাজসেবাতেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। ১৯৯৫ সালে শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শিশুদের জন্য ৩০ কোটির বেশি বই বিতরণ করা হয়েছে।
নিজের জন্মভূমির কাছেই তিনি ডলিউড বিনোদনকেন্দ্রও গড়ে তোলেন। এটি পরবর্তীতে ওই এলাকার অন্যতম বড় কর্মসংস্থান ও পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। করোনার টিকা গবেষণাতেও তিনি বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা করেছিলেন।
ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন ডলি। তার ঝলমলে পোশাক, স্বতন্ত্র সাজ, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব এবং রসবোধের পাশাপাশি তার গান তাকে কয়েক প্রজন্মের মানুষের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। তিনি ১১টি গ্র্যামি পুরস্কারসহ সংগীত ও শিল্পকলায় বহু সম্মাননা পেয়েছেন।
সম্পাদক: আবু সাইদ মোহাম্মদ আখতার হোসেন খান
০১৭২৬-৭৬৩০৩২ (সম্পাদক), ০১৭৯২-০৫৯৪৪৬ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)