স্টাফ রিপোর্টার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দের খোলা গ্রামে একই পরিবারের তিন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পরকীয়া সংক্রান্ত পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী সহ মোট ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে যেকোনো সময় চান্দের খোলা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ৪ আগস্ট সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই ঘটনায় কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০২, তারিখ: ০৫/০৮/২০২৬, ধারা: ৩০২ পেনাল কোড) রুজু করা হয়।
ঘটনার পর বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের একটি যৌথ দল অভিযানে নামে। গত ১৩ আগস্ট যৌথ দল অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত মূল আসামি জাহিদুল ইসলাম (পিতা: মৃত মজিদ হাওলাদার)-কে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে অপর দুই আসামি আসাদুল শেখ (পিতা: সুলতান শেখ) এবং মো: আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু (পিতা: বারিক হাওলাদার)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকালে আসামি আসাদুলের ঘর থেকে আলামত হিসেবে একটি ZENX-2 মোবাইল ফোন ও চার্জার উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম আহাদের পরিবারের এক নারীর সাথে আসামি জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি উভয় পরিবারে জানাজানি হলে আহাদের মা (ভিকটিম মনিরা বেগম)-এর সাথে জাহিদুলের ঝগড়াঝাঁটি হয়। এছাড়া জাহিদুলের নিজ স্ত্রীর সাথে ও এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এই ক্ষোভ ও দ্বন্দ্বের জেরে জাহিদুল ইসলামের পরিকল্পনায় গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামিদের সহযোগিতায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্পাদক: আবু সাইদ মোহাম্মদ আখতার হোসেন খান
০১৭২৬-৭৬৩০৩২ (সম্পাদক), ০১৭৯২-০৫৯৪৪৬ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)