স্টাফ রিপোর্টার
সড়কের পাশে কাঁদতে কাঁদতে পড়ে থাকা দুই বছরের সেই শিশুর ঠাঁই হলো বাবার কাছে। মা চলে যাওয়ার পর স্বজনদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত আশ্রয় না পাওয়া শিশুটির দায়িত্ব নিতে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এসেছেন বাবা মো. পলাশ। প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে শিশুটিকে বাবার কাছে তুলে দেওয়া হয়।তবে শিশুটিকে সরাসরি বাবার হাতে দেওয়ার আগে তার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। বাবার কাছ থেকে শর্তসাপেক্ষে মুচলেকা নেওয়া হয়। পাশাপাশি শিশুটির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
হস্তান্তরের সময় ইউএনও মো. হাবিবুল্লাহ শিশুটির বাবাকে তার ভরণ-পোষণ, নিরাপত্তা ও যত্নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। শর্ত অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে এসে তার শারীরিক ও সার্বিক অবস্থার বিষয়ে জানাতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার ২১ আগস্ট। সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ১৪ নম্বর বারইখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে পাড়া এলাকায় একটি ইটভাটার সামনে সড়কের পাশে শিশুটিকে কাঁদতে দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। পরে শিশুটির পরিচয় ও পরিবারের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে বেরিয়ে আসে পারিবারিক নানা জটিলতার তথ্য।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশুটির বাবা মো. পলাশ ও মা মোসা. মিতু আক্তারের মধ্যে প্রায় তিন মাস আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। শুক্রবার শিশুটির মা তাকে সড়কের পাশে রেখে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পরে শিশুটিকে তার দাদির কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও তিনিও দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। এতে শিশুটির নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়রা শিশুটিকে নিয়ে ইউএনও মো. হাবিবুল্লাহর বাসভবনে যান। শিশুটির অসহায়ত্ব দেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তার দায়িত্ব নেওয়া হয়। সেখানে শিশুটির জন্য খাবার, পোশাক ও নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা করেন ইউএনও।
এরপর শিশুটির বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোরেলগঞ্জের বাইরে থাকার কথা জানান। তাকে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়। সোমবার তিনি ইউএনও কার্যালয়ে এলে শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে নির্ধারিত শর্তে বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে শিশুটিকে তার জিম্মায় দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল খায়েরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই বছরের শিশুটিকে ঘিরে কয়েক দিনের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্বজনদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাওয়া শিশুটির জন্য শেষ পর্যন্ত বাবার আশ্রয় নিশ্চিত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রত্যাশা, মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত এই শিশুটি অন্তত বাবার কাছে নিরাপদে বেড়ে উঠবে। পাশাপাশি শিশুটির অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে—এমনটিই আশা করছেন তারা।
এদিকে বিপদে পড়া শিশুটির পাশে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আশ্রয়, খাবার, পোশাক ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করায় ইউএনও মো. হাবিবুল্লাহর মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা ।
সম্পাদক: আবু সাইদ মোহাম্মদ আখতার হোসেন খান
০১৭২৬-৭৬৩০৩২ (সম্পাদক), ০১৭৯২-০৫৯৪৪৬ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)