স্টাফ রিপোর্টার
সাভারের গেন্ডা বাজারে ক্রেতার চোখ ফাঁকি দিয়ে ককশিটের বক্সে লুকিয়ে রাখা ৪৩ কেজি পচা-বাসি গরুর মাংস জব্দ করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পচা মাংস বিক্রির চেষ্টা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধ রসিদ ও ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ‘জাহাঙ্গীর গোশত বিতান’ নামের একটি দোকানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত সোমবার (২৪ আগস্ট) সংস্থাটির উপ-পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বি. এম. রুহুল আমিন রিমনের নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, গেন্ডা বাজারের জাহাঙ্গীর গোশত বিতানে আকস্মিক পরিদর্শনকালে দোকানের পেছনে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা একটি ককশিটের বক্সের সন্ধান পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে বক্সটি খুলে সেখান থেকে প্রায় ৪৩ কেজি দুর্গন্ধযুক্ত ও পচা গরুর মাংস উদ্ধার করা হয়।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভালো মাংসের আড়ালে বা সুযোগ বুঝে এসব পচা মাংস সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হতো।
এছাড়া বিক্রির উদ্দেশ্যে ঝুলিয়ে রাখা মাংসের উৎস বা ট্রেসিবিলিটি সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র এবং ব্যবসার হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হয় দোকান কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নিজের অপরাধ স্বীকার করলে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দোকানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। সেই সঙ্গে জব্দকৃত ৪৩ কেজি ক্ষতিকর পচা মাংস জনসম্মুখে বিনষ্ট করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে ঢাকা জেলার নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম, মনিটরিং অফিসার মোহাম্মদ ইমরান হোসেন মোল্লা, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাপোর্ট স্টাফ এবং ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল উপস্থিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বি. এম. রুহুল আমিন রিমন বলেন, "পচা ও পচনশীল মাংস ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা করে বিক্রি করা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ। সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলাজুড়ে আমাদের এ ধরনের ঝটিকা তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।"
সম্পাদক: আবু সাইদ মোহাম্মদ আখতার হোসেন খান
০১৭২৬-৭৬৩০৩২ (সম্পাদক), ০১৭৯২-০৫৯৪৪৬ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)