1. gangchil24@gmail.com : gangchil :
  2. gangchilbd@gmail.com : gangchilbd :
  3. testbd@gmail.com : testbd :
বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন

রাজপথ থেকে বঙ্গভবনে “মির্জা ফখরুল”

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত

গাঙচিল নিউজ ডেস্ক

২৫৫ ভোট পেয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে জয়ী হয়ে তিনি যাচ্ছেন বঙ্গভবনে।

এ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোট ৩৪৩টি, অব্যবহৃত ব্যালট ৬টি।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়। গণনা প্রক্রিয়া শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।

ফল ঘোষণার পরই বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী তার দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুলকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সেই সাথে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ারে বসতে যাওয়া ঠাকুরগাঁওয়ের এ কৃতি সন্তানকে। খুশির খবরে দীর্ঘদিনের রাজপথের এ সঙ্গীকে জড়িয়ে ধরেন সংসদ সদস্যরা।

এই নির্বাচনে ভোটাভুটি হলেও সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংসদ সদস্য থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিত ছিল। গত ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে, তারপরই দলের মহাসচিব পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

এদিকে, রাজনীতি থেকে বিদায় বেলায় গতকাল বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে আবেগঘন ভাষায় মির্জা ফখরুল লেখেন, ‘আজ আপনাদের থেকে সর্বশেষ বিদায় নেওয়ার সময় এসেছে। আজকে শেষবারের মতো “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ” বলে বিদায় নিচ্ছি। আপনাদের বিশ্বস্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

রাজনীতির কঠিন সময়ে দলের হাল ধরার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করার সময়ে দীর্ঘদিন দল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মির্জা ফখরুল। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৭ বছরের শাসনামলে বিরোধী দলের রাজনীতির কারণে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবাসসহ নানা চাপের মুখেও তাঁকে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকতে হয়েছে।

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের এই দীর্ঘ পথচলার শুরু অবশ্য রাজনীতির মঞ্চে নয়, শিক্ষকতা দিয়ে। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন তিনি।

শিক্ষকতার পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বও পালন করেছেন মির্জা ফখরুল। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর এস এ বারী পদত্যাগ করলে তিনি আবার শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যন। পরে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মির্জা ফখরুল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় কর্মী হিসেবে তিনি সংগঠনটির এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি।

১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দের পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পরপরই এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রথম বড় সাফল্য আসে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ। ওই বছরের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিসভায় ছিলেন।

২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে পরাজিত হন মির্জা ফখরুল। তবে নির্বাচনী রাজনীতিতে পরাজয় তাঁর রাজনৈতিক পথচলাকে থামাতে পারেনি। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। বিরোধী দলের রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ধীরে ধীরে বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন।

২০১১ খ্রিষ্টাব্দের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা গেলে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। এরপর প্রায় পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম কেন্দ্রীয় মুখ তিনি।

বিএনপির রাজনীতিতে মির্জা ফখরুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৭ বছরের সময়কাল। ওই সময়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। ফলে দেশের রাজনীতির মাঠে দলীয় কর্মসূচি, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মির্জা ফখরুলকে সামনের সারিতে থাকতে হয়েছে।

বিরোধী দলের রাজনীতির কারণে এ সময়ে তিনি একাধিক মামলায় আসামি হন, গ্রেফতার ও কারাবরণ করেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় তাঁকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হতে হয়েছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

এই সময়ের মির্জা ফখরুলকে অনেকটা ‘সংকটকালের সারথি’ হিসেবেই দেখেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সংসদে দলের উপস্থিতি সীমিত থাকা, শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনের মধ্যে দলকে সংগঠিত রাখার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর।

২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হন মির্জা ফখরুল। বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হলেও বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। পরে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। এবার তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় সরকারের মন্ত্রিত্ব। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন। মন্ত্রিসভায় প্রায় ছয় মাস দায়িত্ব পালনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে রাষ্ট্রপতি পদকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেয়। আজ তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি।

এই ক্যাটাগরির আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত   © ২০২৬   গাঙচিল নিউজ

Theme Customized By Shakil IT Park