
গাঙচিল নিউজ ডেস্ক
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের রুট নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, কারিগরি আলোচনার পর দুই দেশ নিরাপদে জাহাজ চলাচলের একটি নির্দিষ্ট মানচিত্র (রুট) নিয়ে একমত হয়েছে।
তবে এ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও সামরিক হুমকি বন্ধসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে বলে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী এই দুই দেশ গত তিন মাস ধরে এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। মূলত নিরাপদে জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণে গত ১৮ জুন উভয় দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়, যার ধারাবাহিকতায় এসব কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার অগ্রগতি তুলে ধরে ইসমাইল বাঘাই বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাধা সত্ত্বেও গত তিন সপ্তাহে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং জাহাজ চলাচলের রুটের মানচিত্র নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে।”
তিনি জানান, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও পরিবেশবিষয়ক কর্তৃপক্ষের যৌথ সমন্বয়ে এই পথ নির্দেশনার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
তবে প্রক্রিয়াটি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি উল্লেখ করে বাঘাই জানান, তেহরান ও মাসকাটের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশের বিষয়সহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। চুক্তি ও প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত রূপ না পাওয়া পর্যন্ত দুই দেশের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান ও ওমানের এই চুক্তি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দুই উপকূলীয় দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে সম্পাদন করা হয়েছে। এর একমাত্র লক্ষ্য হলো সমুদ্রপথে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করা।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর নির্ভর করছে উল্লেখ করে বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালিতে পুরোপুরি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’, সামরিক হুমকি ও নৌ অবরোধ বন্ধের ওপর। এছাড়া গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্র যেসব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও তেহরান দাবি করছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরান ও মাসকাটকে হরমুজ প্রণালির জন্য নতুন একটি নৌ-কাঠামো তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওমানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোলেও ইরান বারবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করলেই কেবল এ কৌশলগত সমুদ্রপথটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।