1. gangchil24@gmail.com : gangchil :
  2. gangchilbd@gmail.com : gangchilbd :
  3. testbd@gmail.com : testbd :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

পিত্তথলির পাথর অপারেশনের সময় তরুণীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৯ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার

বাগেরহাট পৌরসভার পুরাতন বাজার সংলগ্ন পলি ক্লিনিকে পিত্তথলির পাথর অপারেশনের সময় নাছিমা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলছে, অপারেশনের সময় হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মৃত নাছিমা আক্তার বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বারদাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সুমন সরদারের স্ত্রী। পরিবার ও ক্লিনিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে পিত্তথলিতে পাথর থাকায় নাছিমা আক্তারকে পলি ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। ক্লিনিকের পরিচালক ডা. সুনীল কুমারের তত্ত্বাবধানে তার অপারেশন শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর অপারেশন চলাকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে স্বজনদের তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

নাছিমার স্বামী সুমন সরদার অভিযোগ করে বলেন, আমরা এখানে অপারেশন করতে চাইনি। এরপরও চিকিৎসক আমাদের এখানে রাখেন। আমার সাত মাসের একটি সন্তান আছে। আমি কীভাবে তাকে বাবা হয়ে মানুষ করব? আমাকে এক লাখ টাকা নিয়ে চুপচাপ থাকতে বলে এই টাকা নিয়ে বাচ্চার দুধ খাওয়ানোর জন্য আমাকে এক লাখ তো দূরের কথা এক কোটি টাকা দিলেও আমার স্ত্রীকে ফিরে পাব না। আমি এই চিকিৎসকের বিচার চাই।

নাছিমার এক স্বজন বলেন,রাতে অপারেশন থিয়েটারের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পাই। আমরা জানতে চাইলে বলা হয়, নার্স চিৎকার করেছেন। পরে রোগী মারা যাওয়ার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। বিভিন্নভাবে বলা হয়, রোগী ভালো আছে। অথচ ভোরে আমাদের জানানো হয়, সে মারা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রতন অভিযোগ করে বলেন,এর আগেও এখানে কয়েকজন রোগী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। আমরা চাই বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মানুষ এভাবে মারা না যায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ ও অবকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে পলি ক্লিনিকের পরিচালক ডা. সুনীল কুমার বলেন,নাছিমা আক্তার পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে আমাদের ক্লিনিকে ভর্তি হন। সোমবার রাতে তার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় হঠাৎ তার হার্টবিট বেড়ে যায় এবং তিনি মারা যান। প্রায় দুই ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটারে ছিলেন তিনি। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই অপারেশন করা হয়েছিল। সাধারণত কোনো অপারেশনের আগে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনাটি একটি দুর্ঘটনার মতো হয়েছে।

মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নাছিমার স্বজনরা ক্লিনিকে জড়ো হন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

বাগেরহাট সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সামসুল আরেফিন বলেন,এখন পর্যন্ত রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ. স. ম. মো. মাহবুবুল আলমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, নাছিমা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এই ক্যাটাগরির আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত   © ২০২৬   গাঙচিল নিউজ

Theme Customized By Shakil IT Park