
স্টাফ রিপোর্টার
বৈরী ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নোয়াখালীর হাতিয়ার সঙ্গে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে নোয়াখালী মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া। ফলে দুই পাড়ে যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন আটকে পড়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে নদী উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, সকাল থেকে নলচিরা ও চেয়ারম্যান ঘাটে অসংখ্য যাত্রীকে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। হঠাৎ সিদ্ধান্ত আসায় আগে থেকে তথ্য না পেয়ে ঘাট এলাকায় এসে আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন তারা। নদী উত্তাল ও প্রবল ঢেউ থাকায় সি-ট্রাক, ফেরি কিংবা স্পিডবোট—কোনোটিই ছাড়েনি।
হাতিয়া-চেয়ারম্যান ঘাট নৌপথের ফেরি মহানন্দার মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে।
ট্রলার মালিক সমিতির সদস্য মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, বাতাসের তীব্রতা ও নদীতে প্রবল ঢেউ থাকায় ঝুঁকি এড়াতে সব ধরনের ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
হাতিয়া উপকূলীয় নদীবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা রুটসহ হাতিয়ার সব সরকারি নৌযান চলাচল স্থগিত রয়েছে।
নোয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, হাতিয়া বর্তমানে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেতের আওতায় রয়েছে। সাগর ও নদী প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে সকাল থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।