1. gangchil24@gmail.com : gangchil :
  2. gangchilbd@gmail.com : gangchilbd :
  3. testbd@gmail.com : testbd :
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

জাবি ক্যাম্পাসে শিশু শ্রম; ১২টি খাবারের হোটেলে কাজ করছে অন্তত ৩১জন শিশু

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
  • ২১ বার পঠিত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলা ও আরটিএইচ (RTH) চত্বরের বিভিন্ন হোটেল ও খাবারের দোকানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক কর্মী কাজ করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্তত ১২টি হোটেল ও খাবারের দোকানে মোট ৭৩ জন কর্মীর মধ্যে ১৮ বছরের নিচে রয়েছে অন্তত ৩১ জন। তাদের অধিকাংশের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

তথ্য অনুযায়ী, আল মদিনা, সুজন হোটেল, তাজমহল, রাবেয়া ভর্তা বাড়ি, নুরজাহান, রাধুনি, বামের দোকান, জান্নাতুল কফি হাউজ, জমজম জুস ভান্ডার, ইলিয়াস অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, খোরাক ও ক্রেভিংস কর্নার—এসব প্রতিষ্ঠানে অপ্রাপ্তবয়স্করা খাবার পরিবেশন, থালা-বাসন পরিষ্কার, রান্নাঘরের সহকারীসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। কাজ করা কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংসারের অভাবই তাদের স্কুলের বদলে কর্মস্থলে নিয়ে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৬ বছর বয়সী এক কর্মী বলেন, ‘বাড়িতে বাবা অসুস্থ। সংসারে নিয়মিত আয় করার মতো কেউ নেই। এখানে কাজ করে যা পাই, তা দিয়ে পরিবারের খাবার-দাবার চলে। পড়াশোনা করতে ইচ্ছা ছিল, কিন্তু এখন পরিবারের দায়িত্বই আগে।’

১৫ বছর বয়সী আরেক কর্মীর ভাষ্য, ‘আমরা কাজ না করলে বাসায় রান্না হয় না। ছোট ভাইবোন আছে। তাদের জন্যই কাজ করছি।’ ১৭ বছর বয়সী এক কর্মী বলেন, ‘সারাদিন কাজ করি। মাস শেষে যে টাকা পাই, পুরোটা বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। নিজের জন্য তেমন কিছুই রাখি না।’

এ বিষয়ে কয়েকজন হোটেল মালিক বলেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের কাজে নিচ্ছেন না; বরং মানবিক দিক বিবেচনা করেই সুযোগ দিচ্ছেন। একজন মালিক বলেন, ‘আমরা বড় বয়সী কর্মী খুঁজে পাই না। যারা আসে, তারা বেশিদিন থাকে না বা বেশি বেতন চায়। এই ছেলেগুলো নিজেরাই কাজের জন্য আসে। অনেকের পরিবারে উপার্জন করার আর কেউ নেই। মানবিক দিক বিবেচনা করেই তাদের কাজ দিই।’

শ্রম আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্কদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এসব প্রতিষ্ঠানে শিশু ও কিশোরদের শ্রমে যুক্ত থাকার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, দারিদ্র্য নিরসন ও শিক্ষাবান্ধব সামাজিক সহায়তা বাড়ানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে।

এই ক্যাটাগরির আরও খবর

© স্বত্ব সংরক্ষিত   © ২০২৬   গাঙচিল নিউজ

Theme Customized By Shakil IT Park